ত্রিমাত্রিক বস্তু কাকে বলে?

ত্রিমাত্রিক বস্তু কাকে বলে?

যেসব বস্তুর দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং উচ্চতা (বা বেধ/গভীরতা)—এই তিনটি মাত্রা বা পরিমাপ রয়েছে এবং যা কোনো স্থানে নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা দখল করে, সেগুলোকে ত্রিমাত্রিক বস্তু (Three-Dimensional Object বা 3D Object) বলে। দৈনন্দিন জীবনে আমাদের চারপাশে থাকা অধিকাংশ বাস্তব বস্তু, যেমন—বই, ইট, ফুটবল, কাঠের বাক্স বা জলের বোতল হলো ত্রিমাত্রিক বস্তুর চমৎকার উদাহরণ। দ্বিমাত্রিক বস্তুর (যেমন: কাগজে আঁকা একটি বৃত্ত বা আয়তক্ষেত্র) সাথে ত্রিমাত্রিক বস্তুর মূল পার্থক্য হলো এদের শুধুমাত্র ক্ষেত্রফলই থাকে না, বরং একটি নির্দিষ্ট আয়তন বা স্থূলতা থাকে, যার ফলে এদেরকে যেকোনো দিক বা কোণ থেকে পর্যবেক্ষণ করা যায় এবং স্পর্শ করে অনুভব করা যায়।

ত্রিমাত্রিক বস্তুর উদাহরণ

আমাদের চারপাশে প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান ও ব্যবহৃত অধিকাংশ জিনিসই ত্রিমাত্রিক বস্তুর উদাহরণ; যেমন—খেলার ফুটবল বা মার্বেল (গোলক), পড়াশোনার বই বা দালান তৈরির ইট (আয়তাকার ঘনবস্তু), লুডো খেলার ছক্কা (ঘনক), পানির গ্লাস বা কৌটা (বেলন বা সিলিন্ডার) এবং আইসক্রিমের কোণ বা জন্মদিনের টুপি (কোণক)। এই প্রতিটি বস্তুই কেবল কোনো সমতলে সীমাবদ্ধ না থেকে মহাশূন্যে বা স্থানে নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা জুড়ে অবস্থান করে এবং এদের নিজস্ব আয়তন ও পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল রয়েছে।

ত্রিমাত্রিক বস্তুর বৈশিষ্ট্য

ত্রিমাত্রিক বস্তু (3D Objects) দ্বি-মাত্রিক বস্তুর (যেমন—কাগজে আঁকা রেখা বা সমতল জ্যামিতিক চিত্র) চেয়ে স্বতন্ত্র। কোনো বস্তুকে ত্রিমাত্রিক হিসেবে চিহ্নিত করার মূল বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১) তিনটি মাত্রা (Three Dimensions): এদের দৈর্ঘ্য (Length), প্রস্থ (Width) এবং উচ্চতা, গভীরতা বা পুরুত্ব (Height/Depth/Thickness)—এই তিনটি পরিমাপ বা মাত্রা থাকে।

২) যেকোনো ত্রিমাত্রিক বস্তু স্থানে বা মহাশূন্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা দখল করে থাকে। এর ভেতরে আবদ্ধ জায়গার পরিমাপকে বস্তুটির আয়তন বলে।

৩) ত্রিমাত্রিক বস্তুর বাইরে সীমানানির্দেশক এক বা একাধিক তল থাকে। বস্তুর ধরন অনুযায়ী তলগুলো সমতল (যেমন: বই বা বাক্সের তল), বক্রতল (যেমন: ফুটবলের উপরিভাগ) অথবা উভয় প্রকারের মিশ্রণ হতে পারে।

৪) বহু তলবিশিষ্ট ত্রিমাত্রিক বস্তুতে দুটি তল যেখানে এসে মিলিত হয়, সেখানে একটি রেখা বা ধার তৈরি হয় (যেমন: কাঠের বাক্সের প্রতিটি কোণার রেখা)।

৫) যখন তিনটি বা তার বেশি ধার কোনো এক বিন্দুতে এসে মিলিত হয়, তাকে শীর্ষবিন্দু বা কৌণিক বিন্দু বলে (যেমন: পিরামিডের চূড়া বা ছক্কার কোণাগুলো)।

Premium By Raushan Design With Shroff Templates

Related Posts

Post a Comment