ব্যাকটেরিয়া কাকে বলে? বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব

ব্যাকটেরিয়া কাকে বলে?

ব্যাকটেরিয়া হলো এককোষী, প্রোক্যারিওটিক (প্রাক-কেন্দ্রিক বা আদিকে কেন্দ্রকযুক্ত) অনুজীব, যাদের সুগঠিত নিউক্লিয়াস ও আবরণীবদ্ধ অঙ্গাণু থাকে না। এরা পৃথিবীর প্রাচীনতম এবং সর্বাধিক সংখ্যায় বিদ্যমান জীবদের অন্যতম।

ব্যাকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য

ব্যাকটেরিয়ার জড় কোষ প্রাচীরবিশিষ্ট এককোষী আদিকেন্দ্রিক অণুজীব। এর সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে-

  • ব্যাকটেরিয়ার আকার সাধারণত ০.২ - ৫০ মাইক্রোমিটার।
  • এরা অণুবীক্ষণিক জীব।
  • এরা এককোষী, তবে একসাথে অনেকগুলো কোষ কলোনি করে বা দলবদ্ধভাবে থাকতে পারে।
  • এদের কোষ প্রাককেন্দ্রিক। তাই এদের কোষে রাইবোসোম ছাড়া অন্য কোন ঝিল্লীবদ্ধ অঙ্গাণু (যেমন: নিউক্লিয়াস, মাইটোকন্ড্রিয়া, ক্লোরোপ্লাস্ট, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম, গলগি বডি, লাইসোসোম এবং সাইটোস্কেলেটন ইত্যাদি) থাকে না।
  • এরা পরজীবী এবং রোগ উৎপাদনকারী, অধিকাংশই মৃতজীবি এবং কিছু স্বনির্ভর। এরা সাধারণত দ্বিভাজন বা বাইনারি ফিশন প্রক্রিয়ায় সংখ্যাবৃদ্ধি করে।
  • এদের কোষ প্রাচীর প্রধানত পেপটিডোগ্লাইকান। এর সাথে মিউরামিক অ্যাসিড এবং টিকোয়িক অ্যাসিড থাকে।
  • ফায ভাইরাসের প্রতি এরা সংবেদনশীল।
  • এরা অজৈব লবণ জারিত করে শক্তি সংগ্রহ করে।
  • এরা সাধারণত মৌলিক রং ধারণ করতে পারে। যেমন- গ্রাম পজিটিভ বা গ্রাম নেগেটিভ।
  • এদের কোষে ক্রোমোসোম হিসেবে একটি দ্বিসূত্রক বৃত্তাকার DNA অণু থাকে। এতে ক্রোমোসোমাল হিস্টোন প্রোটিন থাকে না।
  • কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়াতে নিউক্লিয়ার বহির্ভূত DNA  থাকে যা সাধারণত প্লাজমিড নামে পরিচিত।

ব্যাকটেরিয়ার গুরুত্ব

মানব জীবনে ব্যাকটেরিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। সাধারণত ব্যাকটেরিয়ার ক্ষতিকর কার্যকলাপই আমাদের চোখে পড়ে। তাই ব্যাকটেরিয়াকে শত্রু মনে করি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ব্যাকটেরিয়া আমাদের শত্রু নয়। এরা আমাদের অনেক উপকারও করে। তাহলে বলতে পারি ব্যাকটেরিয়া আমাদের  উপকার এবং অপকার দুটোই করে। উভয় প্রকার গুণাবলির জন্য ব্যাকটেরিয়া আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাকটেরিয়ার গুরুত্বকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। যথাঃ 

ক) ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা এবং 
খ) ব্যাকটেরিয়ার অপকারিতা।

ক) ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা

১) চিকিৎসাক্ষেত্রেঃ
অ্যান্টিবায়োটিক তৈরিতেঃ ব্যাকটেরিয়া হতে সাবটিলিন এবং পলিমিক্সিন নামক অ্যান্টিবায়োটিক প্রস্তুত করা হয়। যেমন: Bacillus subtilis হতে সাবটিলিন এবং Bacillus polmyxa হতে পলিমিক্সিন প্রস্তুত করা হয়। 
প্রতিষেধক টিকা তৈরিতেঃ ব্যাকটেরিয়া হতে কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা প্রভৃতি রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রস্তুত করা হয়। ডি.পি.টি. রোগের প্রতিষেধকও ব্যাকটেরিয়া হতে প্রস্তুত করা হয়। যেমন: Corynebacterium diptheriae (D), Bordetalla pertussis (P) এবং Clostridium tetani (T) এ তিনটি শব্দের সমন্বয়ে DPT নামকরণ করা হয়েছে।

২) কৃষিক্ষেত্রে
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেঃ
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাটির জৈব পদার্থ সঞ্চয়ে ব্যাকটেরিয়া প্রত্যক্ষভাবে কাজ করে। অনেক সময় ব্যাকটেরিয়া মাটির উপাদান হিসেবেও কাজ করে। নানাবিধ আবর্জনা হতে পচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া জৈব সার এবং জৈব গ্যাস প্রস্তুত করে।
নাইট্রোজেন সংবন্ধনেঃ Azotobacter, Pseudomonas, Clostridium প্রভৃতি ব্যাকটেরিয়া সরাসরি বায়ু হতে নাইট্রোজেন গ্রহণ করে নাইট্রোজেন যৌগ পদার্থ হিসেবে স্থাপন করে, ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। Rhizobium ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলের নডিউলে নাইট্রোজেন সংবন্ধন করে।
পতঙ্গনাশক হিসেবেঃ কোন কোন ব্যাকটেরিয়া লেপিডোপটেরা (Lepidoptera) ও অন্যান্য পতঙ্গের লার্ভা আক্রমণ করে এবং সেগুলোকে সমূলে বিনষ্ট করে। যেমন- Bacillus thuringiensis নামক ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন প্রকার পতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়।
ফলন বৃদ্ধিতেঃ কিছু বিশেষ ব্যাকটেরিয়া প্রয়োগ করে ধানের উৎপাদন শতকরা ৩১.৮ ভাগ এবং গমের উৎপাদন শতকরা ২০.৮ ভাগ বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

৩) শিল্পক্ষেত্রে
চা, কফি এবং তামাকজাত প্রক্রিয়াকরণেঃ
চা, কফি এবং তামাকজাত প্রক্রিয়াকরণ ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দুগ্ধজাত শিল্পেঃ দুগ্ধ হতে মাখন, দই, পনির প্রভৃতি তৈরিতে ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। কারণ এসব খাদ্যের স্বাদ, বর্ণ ও গন্ধ ব্যাকটেরিয়ার গুণগত বৈশিষ্ট্যের উপর নির্ভরশীল।
পাট শিল্পেঃ ব্যাকটেরিয়াজনিত পঁচন ক্রিয়ার ফলেই পাটের কান্ড থেকে আঁশগুলো পৃথক হয়। ফলে আমরা পাটের আঁশ পেয়ে থাকি। এক্ষেত্রে Clostridium ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চামড়া শিল্পেঃ চামড়া হতে লোম ছড়াতে ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Premium By Raushan Design With Shroff Templates

Related Posts

Post a Comment