পর্যায় সারণির s-ব্লক এবং p-ব্লক-এর মৌলসমূহকে (সাধারণত গ্রুপ ১, ২ এবং ১৩ থেকে ১৭ পর্যন্ত) একত্রে প্রতিনিধি মৌল (Representative Elements) বা মূল গ্রুপের মৌল বলা হয়।
কেন "প্রতিনিধি মৌল" বলা হয়?
এই মৌলগুলোর সর্বশেষ শক্তিস্তরের (যোজ্যতা স্তরের) ইলেকট্রন সংখ্যা খুব সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলে। এদের সর্ববহিঃস্থ স্তরের ইলেকট্রন বিন্যাসই নির্দিষ্ট গ্রুপের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম এবং পর্যায়ের বিভিন্ন পর্যায়বৃত্ত ধর্মের (যেমন: পারমাণবিক আকার, আয়নীকরণ শক্তি ইত্যাদি) ধারাবাহিক পরিবর্তনকে সবচেয়ে সুন্দরভাবে প্রতিনিধিত্ব করে।
প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ
ব্লক বিভাজন: এরা পর্যায় সারণির s-ব্লক (সাধারণ ইলেকট্রন বিন্যাস: ns1-2) এবং p-ব্লক (সাধারণ ইলেকট্রন বিন্যাস: ns2 np1-5) এর অন্তর্গত।
ইলেকট্রন বিন্যাসের ধরণ: এদের ভেতরের শক্তিস্তরগুলো পুরোপুরি পূর্ণ থাকে, কেবল সর্ববহিঃস্থ যোজ্যতা স্তরটি অপূর্ণ থাকে।
বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি: এই শ্রেণীর মধ্যে তীব্র সক্রিয় ধাতু (যেমন: সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম), অধাতু (যেমন: অক্সিজেন, ক্লোরিন) এবং অপধাতু বা উপধাতু (যেমন: সিলিকন)—সব ধরনের মৌলই বিদ্যমান।
পর্যায়বৃত্ত ধর্ম: এদের আয়নীকরণ শক্তি, ইলেকট্রন আসক্তি, তড়িৎ ঋণাত্মকতা ইত্যাদির পরিবর্তন সারণিতে খুব নিয়মানুগভাবে ঘটে।
Post a Comment
Post a Comment