ভূমির যোগান বা পরিমাণ বৃদ্ধি না করতে পারার মূল কারণ হলো—এটি মানুষের তৈরি কোনো বস্তু নয়, বরং প্রকৃতির একটি সীমিত এবং স্থায়ী দান। অর্থনীতি এবং ভূগোলের দৃষ্টিকোণ থেকে এই বিষয়টি খুব সহজভাবে বোঝা যায়।
নিচে মূল কারণগুলো তুলে ধরা হলো:
প্রকৃতির নির্ধারিত সীমানা: পৃথিবীতে মোট স্থলভাগের পরিমাণ নির্দিষ্ট। মানুষ বৈজ্ঞানিক বা প্রযুক্তিগতভাবে অনেক উন্নত হলেও কৃত্রিমভাবে নতুন কোনো ভূখণ্ড বা নতুন কোনো গ্রহ তৈরি করতে পারে না।
ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা: নদী ভরাট করে বা সমুদ্রের বুক থেকে জমি উদ্ধার (Land Reclamation) করে সাময়িকভাবে খুব সামান্য পরিমাণ ভূমির সংস্থান করা গেলেও, তা পৃথিবীর মোট ভূমির তুলনায় একেবারেই নগণ্য। তাছাড়া এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
উৎপাদন ব্যয়হীন: অন্যান্য অর্থনৈতিক উপাদান (যেমন: মূলধন বা কলকারখানা) টাকা খরচ করে বা শ্রমিক খাটিয়ে বাড়িয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু ভূমির কোনো আদি উৎপাদন ব্যয় নেই, তাই টাকা খরচ করলেই নতুন ভূমি সৃষ্টি করা সম্ভব নয়।
অর্থনীতির ভাষায়: ভূমির যোগান রেখা সম্পূর্ণ অস্থিতিস্থাপক (Perfectly Inelastic)। অর্থাৎ, জমির দাম বা চাহিদা যতই বাড়ুক না কেন, এর মোট পরিমাণকে বাড়ানো সম্ভব নয়।
Post a Comment
Post a Comment